ছাত্রলীগ নেত্রী লিলির উপর হামলা

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক সুমনা আক্তার লিলিকে (২৭) শ্লীলতাহানি ও শারিরীকভাবে লাঞ্ছিত করায় ক্ষোভে ফুঁসছে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা। তবে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির একজন নেত্রীকে লাঞ্চিত করার পর কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতাদের নিরবতা তাদের মারাত্মকভাবে ব্যথিত করেছে বলে জানা গেছে। এরকম একটি ঘটনায় দোষিকে এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার না করাতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা। শীর্ষ নেতাদের দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন নেতারা।
অনেকেই বলছেন দোষি মহিউল আহম্মেদ মহির একজন প্রতিমন্ত্রীর ছোট ভাই হওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করছেনা প্রশাসন। আর আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থেকেও ছাত্রলীগের একজন কেন্দ্রীয় নেত্রীর গায়ে হাত তুলেও পার পেয়ে যাওয়াটা গোটা ছাত্রলীগের জন্যও দূর্ণাম বয়ে নিয়ে অাসবে বলে জানিয়েছেন তারা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। দ্রুত ঐ দোষির গ্রেপ্তার দাবি জানিয়েছেন কেন্দ্রের নেতারা। সহযোদ্ধার এমন করুণ অবস্থা কেউ মেনে নিতে পারছেনা।
ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সাবিনা অাক্তার শিউলি তার ফেসবুকে লিখেছেন “বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সকল নেতাকর্মী জাতির পিতার আদর্শকে বুকে ধারণ করে দেশরত্ন শেখ হাসিনার ভ্যানগার্ড হিসাবে কাজ করে। আর সেই বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক সুমনা আক্তার লিলি উপর শারীরিক নির্যাতন,যা বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সকল নেতাকর্মীর জন্য খুবই দুঃখজনক।তাই এই দুস্কৃতকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।”
ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক ও হোম ইকোনমিক্স কলেজের সভাপতি ফারজানা আক্তার সূপর্ণা বলেন “ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির একজন নেত্রীর গায়ে হাত তোলা ওই কুলাঙ্গারকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে তাকে দৃষ্টান্তমুলক স্বাস্তি দিতে হবে। এজন্য তিনি সহযোদ্ধা লিলির পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
কেন্দ্রীয় কমিটির শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক গোলাম রাব্বানি এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন “ একজন অটোরিকসা চালক বজ্জাতের কাছে এর চেয়ে ভাল কিছু আশা করা যায়না। দ্রুত তার গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি।
জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে লিলি তার বড় ভাই তারাগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহীদ বকশী (৩০) ও তারাগঞ্জ উপজেলা পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান তুহিনহসহ (২৮) রংপুরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সংলগ্ন আমের আড়তে আম কিনতে যান। এসময় প্রতিমন্ত্রী রাঙার ছোট ভাই মহি মোটরসাইকেল নিয়ে ওই পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন। এক পর্যায়ে মহি রাস্তায় সাইড নেয়ার জন্য মোটরসাইকেলের হর্ন দেন। তবে আম কিনতে ব্যস্ত থাকা লিলি ও বকশীর তা কর্ণপাত না হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন মহি।
এসময় বকশী নিজের রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার কথা বললে মহি ক্ষিপ্ত হয়ে বকশীকে গালিগালাজ করে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন। পরে লিলি এগিয়ে গিয়ে তার রাজনৈতিক পরিচয় দিলে মহি আরও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন এবং লিলিকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করাসহ শারিরীকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এরপর মহিউল আহম্মেদ মহির (৫০) বিরুদ্ধে মঙ্গলবার (১২ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে কোতোয়ালি থানায় মামলাটি করেন ঘটনার শিকার নেত্রী।
অভিযুক্ত মহিউল আহম্মেদ মহি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিইডি) প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙার ছোট ভাই। তিনি ব্যাটারি চালিত অটো রিকশা মালিক-শ্রমিক সমবায় সমিতির রংপুর জেলা সভাপতি।
মামলার বাদী সুমনা আক্তার লিলি রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার ইকরচালি গ্রামের আইয়ুব আলীর মেয়ে এবং ঢাকা ইডেন কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী। তিনি ছাত্রলীগের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক। -লেটেস্টবিডিনিউজ.

Open