উচ্চস্বরে কথা না বললে শুনিনা : ট্রাফিক পুলিশ

ধীরে ধীরে শ্রবণ শক্তি হারিয়ে ফেলছেন রাজধানীর অধিকাংশ ট্রাফিক পুলিশ সদস্য। একইভাবে দেশের অন্য ব্যস্ত রাস্তাগুলোতে দায়িত্ব পালনকারীরাও আছেন মারাত্মক ঝুঁকিতে। এজন্য প্রচন্ড মাত্রায় শব্দ ও বায়ু দূষণকে দায়ী করছেন চিকিৎসকেরা। উন্নত চিকিৎসা আর পর্যাপ্ত বিশ্রামের সুযোগ না পেলে দীর্ঘ সময় রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা এসব ট্রাফিক সদস্যরা পুরোপুরি শ্রবণ শক্তি হারিয়ে ফেলতে পারেন বলে আশঙ্কা চিকিৎসকদের।
বিশ্বে বসবাসের জন্য সবচেয়ে অযোগ্য ১০ টি শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান ২য়। প্রভাবশালী ব্রিটিশ সাময়িকী দ্যা ইকোনমিস্ট ইনটেলিজেন্স ইউনিটের ২০১৫ সালের প্রকাশ করা জরিপে এর কারণ হিসাবে দায়ী করা হয় অপরিকল্পিত ঘনবসতি এবং বিপজ্জনক অবস্থানে থাকা বাতাস ও শব্দ দূষণকে।
ট্রাফিক পুলিশের এক সদস্য বলেন, ‘কানে খুব কম শুনতে পারি। চোখের দৃষ্টিতে সব বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করি। আমার আগে কোন সমস্যা ছিল না। কিন্তু ট্রাফিক পুলিশ হিসাবে কাজ করার পর আমার চোখে সমস্যা হচ্ছে’।
আরেক ট্রাফিক পুলিশ সদস্য বলেন, ‘কেউ যদি কাছে এসে উচ্চস্বরে কথা না বলে তাহলে আমার শুনতে সমস্যা হয়। আমাদের চাকরির প্রয়োজনে দায়িত্ব পালন করতে হয়’।
জীবীকার তাগিদে বহু কর্মজীবী মানুষেরমত ট্রাফিক সদস্যরাও আছেন মারাত্বক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে ঢাকায় যে কোন রাস্তায় শব্দের তীব্রতা ৬০ থেকে ৮০ ডেসিবেল। লাউড স্পীকারের কারণে আওয়াজের তীব্রতা ৯০ থেকে ১০০ ডেসিবেলে পৌঁছায়। অথচ শব্দের স্বাভাবিক মাত্রা ৩৫ থেকে ৪৫ ডেসিবেল। এই মাত্র যখন ছাড়িয়ে যায় তখন তখন কানের শ্রবণ শক্তি পড়ে যায় হুমকিতে।
হলিফ্যামিলির মেডিকেল কলেজের নাক, কান ও গলা বিশেষজ্ঞ ড. সজল আশরাফ খান বলেন, ‘আন্তকরণের কিছু হেয়ার সেল থাকে যেগুলো নষ্ট হয়ে যায়। এটা প্রথমে অস্থায়ীভাবে হয়ে থাকে। পওে এটা আস্তে আস্তে স্থায়ী রূপলাভ করবে। হেয়ারিং টেষ্ট করলেই বুঝাযাবে এটা শব্দ দূষণ জাতীয় রোগ কিনা’।
স্বাস্থ্যগত নানা সমস্যার পাশাপাশি বর্তমান বাজারে একজন পুলিশ সদস্য বা ট্রফিক কনস্টেবল যে পরিমাণ বেতন পান তাদিয়ে সংসার চালানো অত্যন্ত কষ্টকর। তাই বাধ্য হয়ে অনেকে অনিয়ম বা দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে থাকেন। (যমুনা টিভি থেকে নেয়া)

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open