নিষিদ্ধ পল্লীর কিছু বিশুদ্ধ মানুষের গল্প

নিষিদ্ধ পল্লী, যেখানে সমাজের নিষিদ্ধ পেশায় জড়িত পতিতাদের বসবাস। কিন্তু এই পতিতারা সবাই কিন্তু তাদের নিজের ইচ্ছায় আসেনি এ নিষিদ্ধ পেশায়। বিখ্যাত ভারতীয় সাপ্তাহিক সানন্দায় একজন পতিতা বলেছিলেন,“দুই হাজার পুরুষের সাথে বিছানায় যাবার পরও আমি নিজেকে এখনও গঙ্গাজলের মত পবিত্র মনে করি। কারন এটি আমার পেশা, যেটা আমি নিজে বেছে নেয়নি। নিতে বাধ্য হয়েছি।” তার কথার সূত্র ধরেই বলি নিষিদ্ধ পল্লী তে কিছু বিশুদ্ধ মানুষের খোজ, আর সমাজের কোষে কোষে ক্যান্সারের মত দগদগে কিছু ক্ষতের গল্প বলব আজ। প্রতিবেদনের শুরুতে বলে নিতে চাই এ প্রতিবেদনটি অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নয়। তাই অপ্রাপ্তবয়স্কদের এই প্রতিবেদন না দেখার অনুরোধ রইল। প্রতিবেদনটি খোজ ক্রাইম পোগ্রাম থেকে নেয়া।
দৌলতিয়া পতিতাপল্লি, যেখানে সভ্য সমাজের সীমানা শেষ হয়েছে, শুরু হয়েছে সমাজের চোখে আপাত নিষিদ্ধ এই পল্লীটি। এখানকার মাটিও কিন্তু তথাকথিত সভ্য সমাজের মতই, সূর্য উঠলে এখানেও আলো পড়ে, ছায়ায় শীতল হয়, আবার বর্ষায় সিক্ত হয় মাটির উষ্ণ বুক। কিন্তু এখানে যারা বসবাস করেন তারা নিষিদ্ধ কারন এদের জিবীকার পুজি হল শরীর। ভালবাসাহীন শুধু শরিরী প্রকাশভঙ্গি এদের বাচার একমাত্র অবলম্বন। সস্থা প্রসাধনী আর সাধ্যের মধ্যে রঙ্গীন পোশাক এদের দৃষ্টি আকর্ষনের টোপ। সাথে আদিমতায় ভরা দেহ নির্ভর প্রকাশভঙ্গি। এভাবেই খদ্দেরের খোজে দিন গড়িয়ে যায় তাদের কিন্তু গল্প বদলায় না শুধু বদলায় চরিত্রগুলো ।
কিন্তু কেন তারা এই পথে আসলেন কেনই বা বাসা বাধলেন এই নিষিদ্ধ পল্লী র ঝুপরি ঘরগুলোতে। বেশ কয়েকটি কারন পাওয়া গেল এখানে, তার বেশিরভাগের গল্পেই একজন ভিলেন আছে যারা তাদের ভালবাসার ফাদে ফেলে ব্যাবহার শেষে বিক্রি করে গেছে এখানে। আর কিছু এসেছেন নিজের ইচ্ছায়, সেই ইচ্ছাটা কিন্তু এমনে এমনেই জন্ম নেয়নি। ক্ষুধা তাদের চাবুকপেটা করে এখানে এনে দাড় করিয়েছে, সস্থা দরে বিক্রি হবার জন্য। তাহলে ক্ষুধা কি সব কাজের মূলে? সে প্রসঙ্গের মিমাংসা আমাদের দ্বায়িত্ব নয়। তবে এই অবহেলা আর ভালবাসাহীন জীবন তাদের একেবারে কাটখোট্টা বানিয়ে দিয়েছে, একদম প্রানহীন শুষ্কপ্রায় কাঠের মত। শতবর্ষী দৌলতিয়ার এই নিষিদ্ধ পল্লী তে বসবাস করে প্রায় পনেরশ যৌনকর্মী। যাদের সবার গল্প প্রায় একই রকম, একই রকম বঞ্চনা, অবহেলা, ভালবাসাহীন সকাল দুপুর তাদের। কিন্তু ভালবাসাহীন কি বাচা যায়?
আপনারা সবাই জানেন নিশ্চই, এসব নিষিদ্ধ পল্লী র কিন্তু আইনি বৈধতা আছে। এবার আপনাদের নিয়ে যাব ঢাকার একটি অভিজাত এলাকায়, যেখানে বৈধ অবৈধ এর তোয়াক্কা না করেই এসব ব্যাবসা চলছে এক্কেবারে রমরমা ভাবে। আর যেখানে সবাই ক্ষুধায় কিংবা প্রতারিত হয়ে আসেন নি এসেছেন নিজের ইচ্ছায়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open