‘খুনিরা পেশাদার নন, ঘটনা ডাকাতিও নয়’

নারায়ণগঞ্জের বাবুরাইলের একটি বাড়িতে শিশুসহ পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনাটি কোনো পেশাদার খুনির কাজ নয়, এমনকি এটি কোনো ডাকাতির ঘটনাও নয় বলে মন্তব্য করেছেন জেলা পুলিশ সুপার ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিন।
শনিবার (১৬ জানুয়ারি) মধ্যরাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান। এর আগে, সাড়ে ১১টার দিকে সিআইডি টিম ঘটনাস্থলে আসে। সিআইডির এএসপি আবদুস সালাম এই টিমে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তারা আলামত সংগ্রহের কাজ শুরু করেছেন।
খন্দকার মহিদ উদ্দিন বলেন, এটি মূলত ডাকাতি নয়। কারণ ঘরের কোনো জিনিস খোয়া যায়নি। ফ্লোরে মরদেহগুলো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। কারোটা ঘরে, কারোটা অন্য ঘরে এবং বাথরুমে। প্রাথমিক আলামত দেখে মনে হয়েছে- এটি পেশাদার খুনিদের কাজ নয়।
ঘটনা বিকেলে ঘটতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, খুন করা হয়েছে অনেক আগেই। ফ্ল্যাটটি বাহির থেকে তালা দিয়ে চলে যায় খুনিরা। এটি কোনো কলহ বা দ্বন্দ্বের জেরেই হতে পারে। তবে কিছু ক্লু খুঁজে পাওয়া গেছে, সেই সূত্র ধরে পরবর্তী তদন্ত এগিয়ে নেওয়া যাবে।
পুলিশের ক্রিমিনাল ইনভেসটিগেশন ডিপার্টমেন্টের (সিআইডি) সদস্যরা কাজ করছেন, তারা তদন্ত করে বের করবেন বলে জানান নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার ড. মহিদ।
এদিকে, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঢাকা রেঞ্জ পুলিশের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) মোহাম্মদ অালী সাংবাদিকদের বলেন, আমরা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তথ্য পেয়েছি। হত্যার নানান ইস্যু থাকতে পারে। তদন্ত শেষ হলে বলা যাবে আসল কারণ কী।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে, এতে মূল তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আরও ছুটে আসেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক আনিছুর রহমান মিঞাসহ র‌্যাব ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
শনিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন বাবুরাইল এলাকার একটি বাসার নিচতলা থেকে পাঁচজনের গলাকাটা মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন, তাসলিমা (৩৫), তার ছেলে শান্ত (১০), মেয়ে সুমাইয়া (০৫), তাসলিমার ভাই মোরশেদুল (২২) ও জা লামিয়া (২৫)। ওই বাসার ঠিকানা- ২নং বাবুরাইল, বাসা নং ১৩১/১১; যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ইসমাইল হোসেনের বাড়ি। বাড়িটি স্থানীয় খানকাহ শরীফের পাশে। গতবছর (২০১৫ সাল) নভেম্বরে এ বাড়িতে ভাড়া আসেন তারা।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open