বুলেটে রক্তাক্ত ক্ষতবিক্ষত ধর্ষিত-নগ্ন কিশোরীর বেঁচে থাকার গল্প

নিকষ অন্ধকারের মধ্যে জ্ঞান ফিরতেই কিশোরীর একে একে মনে পড়ে গেল সব । দু সপ্তাহ আগে গ্রেটার নয়ডার বাড়ি থেকে অপহরণ- খামার বাড়িতে রেখে পৈশাচিক গণধর্ষণ- গাড়ি করে খোলা মাঠে এনে গুলি- কুয়োয় ছুড়ে ফেলে দেওয়া- পরিত্যক্ত শুকনো কুয়োয় পড়ে সাময়িক জ্ঞান হারিয়েছিল কিশোরী । খবর এনডিটিভি
আবার জ্ঞান ফিরে আসে কিছু ঘণ্টা পরে । রক্তে ভেসে যাচ্ছে নগ্ন শরীর । তবু মরার আগে মরতে রাজি নয় ১৩ বছরের কিশোরী । দাঁতে দাঁত চিপে একটানে বের করে ফেলল বুকে বিঁধে থাকা বুলেট । আরও একটা আটকে থাকল পিঠে । কিছুক্ষণ চিৎকার করে বুঝলূ লাভ নেইূ গভীর রাতে তার চিৎকার কারও কানে পৌঁছবে না ।
কুয়োর অন্ধকারে যন্ত্রণাবিদ্ধ অপেক্ষা । কখন আলো ফোটেৃভোর হচ্ছে বুঝতে পেরে আবার চিৎকার করতে থাকে কিশোরী । দীর্ঘ চিৎকারের পরে তার বাঁচার আর্তি পৌঁছয় কুয়োর বাইরে ।
শুনতে পায় এক শিশু । গম ক্ষেতে খেলছিল সে । ছুটে গিয়ে জানায় কাকাকে । তার কাকা বাবাল সিংই ওই ক্ষেতের মালিক । প্রথমে ভাইপোর কথা বিশ্বাস করতে চাননি তিনি । শেষে কী মনে হতে কুয়োর পাশে যান এই কৃষক । কান পেতে শোনেন । হ্যাূঁ সত্যি ! গভীর থেকে ভেসে আসছে ক্ষীণ স্বরে বাঁচার আর্তি ।
সব শক্তি জড়ো করে বাবার ছুটলেন দড়ি আনতে । গ্রামবাসীদের খবর দিয়ে গেলেন কুয়োর পাশে । নামিয়ে দেওয়া হল দড়ি । বাঁচার তাগিদে সেটি কোনওমতে ধরে ক্ষতবিক্ষত কিশোরী । গ্রামবাসীরা তাকে তুলে নিয়ে আসে বাইরে । গায়ে জড়িয়ে দেওয়া কম্বল । বাবালকে ওই ‘বাচ্চি‘ কোনওমতে বলেূ খুব কষ্ট হচ্ছেূ কিন্তু সে বাঁচতে চায় ।
মোটোরবাইকে বসিয়ে ওই অবস্থায় তাকে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে । চিকিৎসকরা হতবাকূ দুটো বুলেট বিদ্ধ হয়েও কী করে কুয়োয় পড়ে থেকে ১০ ঘণ্টা লড়াই করল সে ! ‘অবিশ্বাস্য‘ ছাড়া আর কোনও শব্দ খুঁজে পাননি চিকিৎসকরা । বেশ কয়েকদিন হাসপাতালে চিকিৎসার পর বাড়ি যেতে পেরেছে কিশোরী । তার বয়ানের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয়েছে তিন অভিযুক্তকে । পরে ‘বাচ্চি‘র খবর নিয়েছেন বাবাল সিং । কিশোরীর অসমসাহস এবং সহ্যক্ষমতা মুগ্ধ করেছে তাঁকে ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open