ফ্রিজের নিচ থেকে যেভাবে উদ্ধার হল ডিমসহ বিষাক্ত সাপ!

ঘটনাটি ঘটেছে অস্ট্রেলিয়ার কসমোপলিটন শহর এডেলেইডে। রাতে ঘুম থেকে ওঠে ফ্রিজ থেকে পানি বের করতে গেছেন ক্যারেলিনা (ছদ্ম নাম)। অমনি শোনেন ফোঁস। নিচে তাকিয়ে দেখেন, ফ্রিজের তলা থেকে উঁকি মারছে বাদামি রংয়ের বিষধর সাপটা। তিনি তো ভয়ে শেষ। ছুটে গিয়ে ফোন করলেন স্থানীয় এক সাপুড়েকে।
খবর পেয়ে ছুটে আসেন সর্পরাজ রোলি বুরেল। কিন্তু ফ্রিজ সরিয়ে তিনি তো অবাক! ফ্রিজের নিচে মহা সুখে সংসার পেতেছে ওই বাদামি নাগিনী। ইতিমধ্যে সে দশটি ডিমও পেরেছে। আর কিছু দিন গেলেই সেগুলো ফুটে বাচ্চা বের হত। তখন ক্যারেলিনার বাড়ি হয়ে যেত সাপেদের রাজত্ব। তার ঘর জুড়ে কিলবিল করত ভয়াবহ সব সরীসৃপ।
এজন্যই সাপুড়ে রোলি বুরেল বলেন, ‘ক্যারেলিনার ভাগ্য ভালো যে, তিনি সময়মত সাপটি দেখতে পেয়েছিলেন। নইলে তার গোটা বাড়ি সাপের ছানাপোনাতে ভরে যেত।’
বুরেল একজন পেশাদার সাপুরে। তিনি কোনো খেলা ফেলা দেখান না, কেবল সাপ ধরেন। গত ৪০ বছর ধরে তিনি এই কাজই করে আসছেন। এজন্য অতি সহজেই ক্যারেলিনার ফ্রিজের পিছন থেকে সাপটি ধরে ব্যাগে ঢুকিয়ে দেন। অতগুলো ডিম পাড়ার কারণে পোয়াতি সাপিনীটি দুর্বল হয়ে পড়েছিল। তাকে কিছু ইঁদুর আর পানি খাইয়ে সবল করে তোলার চেষ্টা করছেন বুরেল। সুস্থ হওয়ার পর তাকে কাছের কোনো জঙ্গলে ছেড়ে দিয়ে আসবেন তিনি।
ক্যারেলিনার বাসা থেকে উদ্ধার করা সাপটি ছিল অস্ট্রেলিয়ার ভয়াবহ ‘ইস্টার্ন ব্রাউন’ জাতের সাপ। এটি বিশ্বের মারাত্মক বিষধর সাপগুলোর একটি। অস্ট্রেলিয়া ছাড়া পাপুয়া নিউ গিনি ও ইন্দোনেশিয়ায় এর দেখা মেলে। ইস্টার্ন ব্রাউন নাম হলেও এটি কালো, হলুদ, ছাই ও রুপালি রংয়েরও হয়ে থাকে। চার থেকে আট ফুট অব্দি লম্বা হয়ে থাকে। ডিম থেকে বাচ্চা ফুটে বের হতে ৫৫ থেকে ৮০ দিন সময় লাগে। এই ইস্টার্ন ব্রাউনের দংশনে অস্ট্রেলিয়ায় প্রতিবছর এক থেকে দুজন মানুষ মারা যায়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open