ফরিদাকে দালালের কাছে বিক্রির টাকায় দুটি বিয়ে করে সুখেই আছে বাবা

বাংলাদেশের মেয়ে ফরিদা। ফরিদার বয়স তখন ৯ বছর। ওই বয়সেই সামান্য টাকার বিনিময়ে তাকে অন্যের হাতে তুলে দেয় বাবা। শৈশবেই ফরিদা হয়ে যায় পতিতা।
গ্রামের খুব সাধারণ পরিবারে জন্ম। বড় সংসার চালাতে গিয়ে বাবা গলদঘর্ম। একদিন রশিদ নামের একজন এসে ফরিদার বাবাকে বলে, আপনার এই মেয়েকে আমাকে দিন। আমি ওকে নিয়ে যাবো, ও আমার বাসায় থাকবে, কাজটাজ করবে। রাজি হয়ে গেলেন ফরিদার বাবা। ৯ বছরের মেয়েটিকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যায়নি রশিদ। সন্তানের বয়সী মেয়েটিকে নিয়ে গেছে দিল্লি। সেখানে প্রতিরাতে চলতো ধর্ষণ। রশিদ, ওমপ্রকাশ, মাহতাব….একসময় পাঁচজন পুলিশও যোগ দেয় শিশুদেহ ভোগের নারকীয় উৎসবে। তারপর আরো নতুন নতুন খদ্দের আসতে থাকে, দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পেতে গিয়ে পতিতাবৃত্তির শেকলে বাঁধা পড়ে যায় ফরিদা।
প্রতিরাতের পাশবিক অত্যাচার বেশিদিন সহ্য করতে পারেনি ফরিদা। হাসপাতালে যেতে হয় তাকে। সেই সুযোগেই মেলে পতিতাবৃত্তি থেকে মুক্তি। অবশ্য তখনই স্বাধীন জীবন মেলেনি, মিলেছিল কারাবাস। কারামুক্তির পর বড় অভিমান আর ক্ষোভ নিয়ে দেশে ফেরে ফরিদা। ক্ষোভটা বেশি বাবার ওপর। লেখাপড়া না শিখিয়ে ওই বয়সে মেয়েকে অপরিচিতের হাতে তুলে দিয়ে যে বিপর্যয় ডেকে এনেছিলেন- তার জন্য বাবাকে ক্ষমা করতে পারছিল না ফরিদা। অনেক দিন পর ফরিদা যখন বাড়ি ফিরল বাবা তখন আরো বড় সংসারের কর্তা। ফরিদা দেখল, তাকে বিক্রি করে বাবা আরো দুটি বিয়ে করেছে, আরো সাত সন্তানের জনক হয়েছে। ইউটিউবে বেশ কিছুদিন আগেই আপলোড করা এই ভিডিও ইতিমধ্যেই দেখা হয়েছে ৮ লাখ ৮ হাজার ৪৪৫ বার।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open