চাকরির লোভ দেখিয়ে যেভাবে সর্বস্ব লুট করে লম্পটরা

বেকার আর বেকারত্বের বোঝায় প্রায় নুয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। জনসংখ্যা যে হারে বাড়ছে সেই হারে বাড়ছে না কর্মসংস্থান, সেই কারনে বাংলাদেশে বেকারত্বের হার এখন তুঙ্গে। তাইতো বেকার যুবক-যুবতী কোন স্থানে চাকুরির বিজ্ঞপ্তী দেখার সাথে সাথে হুমরি খেয়ে পড়ে। আর এই সুয়োগকে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠান এসব বেকার যুবক-যুবতীর কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। অনেক ক্ষেত্রে কেবল টাকা নয় অন্যকিছুও দাবি করে তারা। তাদের এই প্রতারনার স্বীকার হয়ে কত বেকার যুবক-যুবতী আজ দিশেহারা তার কোন ইয়ত্তা নেই। আমাদের আজকের প্রতিবেদন এসব ভূয়া চাকরিপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠান নিয়ে। প্রতিবেদনটি একুশের চোখ থেকে নেয়া।
পয়সা অথবা ক্ষমতার জোড় এদুটির একটিও না থাকলে এ বাজারে চাকুরি পাওয়া প্রায় অসম্ভব। তারপরও বেকারত্বের অভিশাপ দিয়ে মুক্তি পেতে মানুষের আকুতির শেষ নেই। আর এই সুযোগ নিয়ে কিছু ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠান প্রতারনা করছে। চাকরির বাজারে যখন চৈত্রের খড়া তখনও কিছু প্রতিষ্ঠান অলৌকিকভাবে মানুষকে ঘর থেকে ডেকে এনে চাকুরি দিচ্ছে। যাদের অনেক ক্ষেত্রে কোন দক্ষতা নেই তাদেরকে আবার প্রশিক্ষনেরও ব্যাবস্থা করা হয় এসব প্রতিষ্ঠানে। ট্রেনিং দিয়ে দক্ষ হিসেবে তৈরি করে চাকুরি দেয়া হয় বলে বলছে কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান। মূলত প্রতারনার শুরু এখানেই। এসব প্রতিষ্ঠানে যখন একজন ব্যাক্তি যায় তখন তাকে ভর্তি এবং প্রশিক্ষন বাবদ একটা নির্দিষ্ট পরিমান টাকা প্রদান করতে হয়। যার পরিমান সাধারনত পাচ থেকে ছয় হাজার টাকার মত হয়ে থাকে। টাকা দেয়ার পর তাদের প্রশিক্ষন শুরু হয় ঠিকই কিন্তু প্রশিক্ষন চলাকালীন সময়ে তাদের কাছে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কারন বলে আরো টাকা চাওয়া হয়, যার পরিমান একেবারে নগন্য নয়। যারা টাকা প্রদান করে তাদের প্রশিক্ষন চলতে থাকে, আর যারা টাকা প্রদান না করে তাদেরকে প্রশিক্ষন থেকে ছাটাই করা হয়। কিন্তু তার কাছ থেকে প্রশিক্ষন বাবদ যে টাকা নেয়া হয় তা আর ফেরত দেয়া হয়না। প্রশিক্ষন শেষে কাউকে চাকরি হয়ত দেয়াও হয় । প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত ব্যাক্তিদেরকে মূরত বিভিন্ন গার্মেন্টস এ মাত্র পাচ থেকে ছয় হাজার টাকা বেতনে চাকরি দেয়া হয়। অর্থাৎ সে ট্রেনিং আর অন্যান্য ফিস বাবদ যে পরিমান টাকা প্রদান করেছে তা উঠিয়ে আনতে তার সময় লেগে যাবে কয়েক বছর। এতো গেল প্রশিক্ষন দিয়ে চাকরি দেয়া প্রতিষ্ঠান, কিছু প্রতিষ্ঠান আছে যারা প্রশিক্ষন শেষে কোন প্রকার চাকুরি না দিয়ে সাধারন মানুষের টাকা নিয়ে গায়েব হয়ে যায়। এরপর হয়ত আবার অন্য কোন স্থানে অন্যকোন নামে প্রতিষ্ঠান খুলে মানুষের সাথে শুরু করে প্রতারনা। এরকম হাজারো প্রতিষ্ঠান ঢাকা শহরসহ বিভিন্ন বড় বড় শহরে ব্যাঙের ছাতার মত গেড়ে উঠছে। এদেরকে চিনুন এবং এদের প্রতারনা থেকে বেচে থাকুন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open