সংবাদ সম্মেলনে যা বললেন খালেদা জিয়া

পৌরসভা নির্বাচনে ভোটারদের দলে দলে ভোটকেন্দ্রে হাজির হয়ে সর্বশক্তি দিয়ে ভোটের মর্যাদা রক্ষায় আপ্রাণ চেষ্টা করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। এ সময় তিনি সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে আবারো সেনা মোতায়েনের দাবি জানান।
সোমবার বিকালে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়া এসব কথা বলেন।
খালেদা জিয়া বলেন, সকাল ৯টার মধ্যে ভোট সম্পন্ন হয়ে যাবে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূতের (জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ) এমন কথা প্রমাণ করে ভোট কতটা সুষ্ঠু হবে।
বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, প্রশাসন ও পেশিশক্তি ব্যবহার করে তারা নির্বাচনী ফলাফল ছিনতাই করতে চায়। আপনারা সবাই মিলে দলে দলে ব্যাপক সংখ্যায় ভোটকেন্দ্রে হাজির হয়ে সর্বশক্তি দিয়ে নিজেদের ভোটের মর্যাদা রক্ষায় আপ্রাণ চেষ্টা করবেন। যারা আপনাদের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে, যারা আপনাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অপকৌশলে সরিয়ে দিয়েছে তাদের ভোট চাইবার কোনো অধিকার নেই। জনতার ঐকবদ্ধ শক্তি কোনো স্বৈরশাসকের অসৎ উদ্দেশ্যকে ব্যর্থ করে দিতে যথেষ্ট।
খালেদা জিয়া বলেন, শাসক দল নির্বাচনের উপর অশুভ প্রভাব বিস্তারের পরিকল্পনা করেছে। তারপরও নির্বাচনী যুদ্ধে অবিচল থাকতে হবে। সরকারের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে দলের নেতাকর্মীদের রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
স্থানীয় সরকারের এই নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা পাওয়ার অভিযোগ তুলে খালেদা জিয়া বলেন, নানা ধরনের চাপ ও ভয়ভীতি দেখিয়ে অনেক জায়গায় বিএনপি প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে দেওয়া হয়নি, প্রত্যাহারেও বাধ্য করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সেনা মোতায়েনের দাবি করেছি। নির্বাচনে কমিশন বলেছে, সে ধরনের পরিস্থিতি না কি সৃষ্টি হয়নি। আমরা জানি না, আর কত ভয়াবহ পরিস্থিতি হলে সেনা মোতায়েনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে।
খালেদা জিয়া বলেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে আমরা পৌরসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হয়েছি। আমরা দেশবাসীকে অনুরোধ জানাই, আসন্ন পৌর মেয়র নির্বাচনে আমাদের মনোনীত প্রার্থীদের ধানের শীষে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন। আপনাদের অধিকার ও গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার সংগ্রামে ভূমিকা রাখবেন।
নির্বাচনে সাংবাদিকরা যেন ঠিকমতো দায়িত্বপালন করতে না পারেন তার জন্য নানা অপচেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন খালেদা জিয়া।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ড. আবদুল মঈন খান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য মাওলানা আবদুল হালিম, বাংলাদেশ জাতীয় পাটির্র (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, জাতীয় গণতান্ত্রিক পাটির্র (জাগপা) সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, ন্যাশনাল আওয়ামী পাটির্র (ন্যাপ) মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া, বাংলাদেশ কল্যাণ পাটির্র মহাসচিব এম এম আমিনুর রহমান, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পাটির্র (এনডিপি) চেয়ারম্যান খন্দকার গোলাম মর্তুজা, ন্যাপ-ভাসানীর চেয়ারম্যান এডভোকেট আজহারুল ইসলাম, বাংলাদেশ লেবার পাটির্র চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মজিবুর রহমান পেশোয়ারী, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক কমরেড সাঈদ আহমেদ, জমিয়তে উলামা ইসলামের নেতা মাওলানা মো. মহিউদ্দিন প্রমুখ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open