আফ্রিকায় খোঁজ পাওয়া গেলো নতুন প্রজাতির মানুষের

সম্প্রতি ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক চ্যানেলের উদ্দ্যোগে আফ্রিকায় খোঁজ পাওয়া গেলো নতুন প্রজাতির মানুষের। আধুনিক মানুষের প্রজাতিগত পরিচয় হোমো স্যাপিয়েন্স, যেটা বৈজ্ঞানিক ভাবে স্বীকৃত। বিচার, বিবেচনা, বুদ্ধিমত্তা ও দলগত ঐক্যের কারণে এরা সব প্রাণীর ওপর আধিপত্য বিস্তারে সক্ষম হয়েছে। তবে সম্প্রতি নতুন এক প্রজাতির মানুষের সন্ধান পাওয়ার কথা জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। নাম দেয়া হয়েছে হোমো নালেডি। এদের হাত, কবজি কিংবা পায়ের পাতা দেখতে অবিকল আধুনিক মানুষের মতোই। তবে দেহের উপরের অংশ দেখতে আদিম মানুষের মতো। সাউথ আফ্রিকায় বহু সুড়ঙ্গ বিশিষ্ট একটি বিশাল গুহায় পাওয়া গেছে আধুনিক মানুষের মতোই নতুন আরেকটি প্রজাতির ফসিল বা জীবাশ্ম।

গুহার ভেতরের একটি সমাধিক্ষেত্র থেকে বিজ্ঞানীরা সংগৃহিত এই প্রজাতির মোট ১৫ টি অসম্পূর্ণ কঙ্কাল পেয়েছেন। বৈজ্ঞানিকদের একটি দল ২১ দিনের অভিযানে আবিষ্কার করেন ফসিলের গুহাটি। আফ্রিকা মহাদেশে এই প্রথম কোনো একক অভিযানে এতো বেশি সংখ্যক ফসিল আবিষ্কার করা সম্ভব হলো। গবেষকদের দাবি, এই আবিষ্কার মানব জাতির পূর্বপুরুষ সম্পর্কে এতোদিন ধরে প্রচলিত সব ধারণা ও তত্ত্বকে পাল্টে দিতে সক্ষম হবে। তবে এই বিষয় নিয়ে জনপ্রিয় ই-লাইফ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাপত্রে নতুন আবিষ্কৃত নতুন প্রজাতির মানুষের নাম রাখা হয়েছে ‘হোমো নালেদি’। সেখানে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রজাতিটিকে আধুনিক মানুষের সঙ্গে একই ‘জেনাস’ বা ‘গণ’ভুক্ত করা হয়েছে।

বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্রে আরো বলা হয়েছে, মানুষের এই পূর্বপুরুষেরা বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক আচার-প্রথা পালন করতো। যাকে কিছুদিন আগেও মাত্র ২ লাখ বছর আগের মানুষের কাজ বলে বিবেচনা করা হতো। তবে এই প্রজাতির প্রাণীরা কতো বছর আগে পৃথিবীর বুকে বিচরণ করতো তা সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হতে পারেননি গবেষনারত বিজ্ঞানীরা। তবে বৈজ্ঞানিকদের দলনেতা অধ্যাপক লি বার্জারের বিশ্বাস, এরা আমাদের প্রথম পূর্বপুরুষদের (‘হোমো’ গণের) একটি প্রজাতি যারা প্রায় ৩ কোটি বছর আগ পর্যন্ত আফ্রিকায় বাস করতো।

গবেষক বার্জার মনে করেন, মানুষ এবং এর প্রাচীনতম দু’পায়ে চলা প্রজাতিগুলোর মধ্যে হোমো নালেদি যোগসূত্র হতে পারে। হোমো নালেদিকে মানব ইতিহাসের ‘খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি আবিষ্কার’ বলে অভিহিত করেছেন লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের অধ্যাপক ক্রিস স্ট্রিংগার। জনপ্রিয় সংবাদ মাধ্যম বিবিসিকে তিনি বলেন, ‘আমরা দিন দিন নতুন নতুন সব প্রজাতি খুঁজে পাচ্ছি। যার অর্থ হলো, মানুষের বিবর্তন নিয়ে বিশাল আকারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছে। এ কারণেই আফ্রিকার ভিন্ন ভিন্ন অংশে একই সময়কালে মানুষের মতো ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির প্রাণীর উদ্ভব হয়। এর মধ্যে শুধু একটিই টিকে থাকতে সফল হয়, যেখান থেকে আমরা এসেছি।’

শিশু থেকে বৃদ্ধের ১৫ টি অসম্পূর্ণ কঙ্কালের মধ্যে নারী, পুরুষ দুই-ই আছে। প্রাণীগুলোর কাঁধ থেকে কোমরের অংশটুকু গরিলা বা শিম্পাঞ্জির মতো আদিম কাঠামোর হলেও কাঁধ থেকে হাতের দিকে বা কোমর থেকে পায়ের দিকে গঠন ক্রমশ উন্নত মানুষের মতো বিবর্তন হয়েছে। তাদের মস্তিষ্ক ছোট হলেও তা গরিলা-শিম্পাঞ্জি পর্যায় থেকে অনেকটাই উন্নত প্রকৃতির ছিলো বলে ধারণা গবেষকদের। অভূতপূর্ব আবিষ্কারটি মানবজাতির বিকাশ সম্পর্কে আমাদের আরো জানতে সাহায্য করবে বলে মনে করেন গবেষক স্ট্রিংগার। তার মতে, হোমো নালেদিকে আদি-মানব বলে অভিহিত করা যেতে পারে। এদের অস্তিত্ব আবিষ্কারের পর মানুষের বিবর্তন নিয়ে প্রচলিত তত্ত্বগুলো পুনর্মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।অন্যদিকে বিজ্ঞানী বার্জারের মতো গবেষকরা মনে করেন, আবিষ্কৃত প্রজাতিটি আদিম ও আধুনিক মানুষের সংমিশ্রণ, যা ‘মানুষ’ নামের প্রাণীটির সংজ্ঞা পাল্টে দিতে পারে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open