মুক্তিযুদ্ধে নিহতের সংখ্যা নিয়ে যা বললেন সিরাজুর রহমান

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর পাকিস্তানি কারাগর থেকে মুক্তি পেয়ে শেখ মুজিবুর রহমান প্রথমে লন্ডন যান। সেখানে প্রথমে তার কথা হয় বিবিসির সাংবাদিক সিরাজুর রহমানের সঙ্গে। কথা বলেন যুদ্ধে নিহতের সংখ্যা নিয়ে। ‘লন্ডন ৭১’ টিভির সঙ্গে সাক্ষাৎকারে সিরাজুর রহমান যা বলেছিলেন,
সাংবাদিকের প্রশ্নঃ মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য যিনি তৎপর ছিলেন সেই মানুষটি যখন ছাড়া পেয়ে প্রথম বন্দিদশা থেকে ফেরৎ এলেন লন্ডনে, কেমন দেখলেন তাকে?
সিরাজুর রহমানঃ উনাকে বললাম আপনি প্রেসিডেন্ট হয়েছেন। উনি বললেন আমি আবার কিসের প্রেসিডেন্ট? আমি বললম, আপনি তো দেশে ছিলেন না মুজিব ভাই। আমরা গোটা দেশকে আপনার নামে একত্র করে ফেলেছি। আমরা দেশকে স্বাধীন করে ফেলেছি। তখন উনি আমাকে জড়িয়ে ধরে হু হু করে কাদতে শুরু করলেন। আমিও কেদেছি। ২০/২৫ মিনিট উনি আমাকে জড়িয়ে ছিলেন। তখন আমার নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। টেপ রেকর্ড
অন করতে পারছিনা। ইতোমধ্যে আরো লোক এলেন। জাকারিয়া খান চৌধুরী, প্রফেসর সুরাইয়া খানম এসে উনাকে পা ছুয়ে সালাম করলেন। সবাইকে কুশালাদি জিজ্ঞাসা করলেন। কিন্তু আমাকে যে ছেড়ে দিতে হবে সেটা ধারণা কুলাচ্ছেনা।
তারপর ধীরে সুস্থে উনার পাশে বসলাম। গল্প গুজব করতে করতে উনি বললেন, মুক্তিযুদ্ধ হল, কিভাবে হল? জানতে চাইলেন কেমন ক্ষয়ক্ষতি হল? আমি সব বললাম।
উনি বলল, কত লোক মারা গেলো? আমি বললাম মারা গেছে তার তো আর হিসাব তো কেউ করে নাই। কিন্তু বিভিন্ন মিডিয়া থেকে, বিদেশি পত্রিকাগুলোতে যাচ্ছে, ভারতের সাংবাদিকরা কভার দিচ্ছেন, সবমিলিয়ে আমার এখনে যে আন্দোলন করছি আবু সাঈদ চৌধুরীকেও বলেছি এবং সাংবাদিকদের বলেছি এ পযর্ন্ত
৩লাখ লোক মারা গেছে। যাইহোক পরে তিনি ডেভিড ফ্রাস্ট কে বলেছিলেন ৩ মিলিয়ন।
আমার মনে হয়, যে লাখে আর মিলিয়নে উনি তো একটু উদভ্রান্ত ছিলেন, ভ্যাবলা গোছের ছিলেন বলতে গেলে। কারণ কোন দিকে তাকাচ্ছেন, কিভাবে ভাবছেন বুঝা যাচ্ছিলোনা।
তিনি ওটাকে ৩ মিলিয়ন বলে ফেলেছিলেন এবং অনেক লোক এখনও সেজন্য বলে ৩ মিলিয়ন( ৩০ লাখ) লোক মারা গেছে। তখনকার পর্যন্ত যেসব হিসাব ছিলো, আসলে সেটা মারা যায়নি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Open